1. momin02@gmail.com : MD Momin : MD Momin
  2. admin@upokulbarta.com : upokulbarta : Md Shohel
নোটিশঃ
উপকূলের  জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল উপকূল বার্তায় আপনাকে স্বাগতম

শিশুর বিকাশমান জীবনে মাতৃভাষাই সেরা শিক্ষাঃমুজিবুল মনির

  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৫ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৩ বার পঠিত

মাতৃভাষা ভালভাবে শিখলে ভবিষ্যতে যে কোন বিষয় অধ্যয়ন করাও তার পক্ষে সহজ হবে। মাতৃভাষা আয়ত্ত করতে পারলে শিশুরা তাদের জীবন সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে পারবে। নিজের দেশ, জাতি, সংস্কৃতি ও সাহিত্য সম্পর্কে সচেতন ও শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠবে।

বর্তমানে আমরা নতুন প্রজম্মকে ভাষা শিক্ষার নামে  কি শিখছে যা শিশুদের শিক্ষার মান নস্ট করে দিচ্ছে  স্বাদ-বিস্বাদ বানান শিখতে গিয়ে রামিন বললো, ‘বাবা, তুমি বলতে চাইছো, এটা ‘ব’-এর মতো দেখা গেলেও ‘ব’ অক্ষর না, এর নাম ব-ফলা বা একটা কিছু। আবার বলছো এই ‘ব’-এর উচ্চারণ হবে না! ‘স’ এর নিচে এই ‘ব’ থাকলে উচ্চারণ করতে হবে শ্শ? তাহলে স্বাদ না লিখে শাদ লিখলেই তো হয়ে যেতো, বিশ্শাদ লিখলেই হয়!’ বুঝাতে চাইলাম বিষয়টা, থামিয়ে দিয়ে রামিনের ক্ষোভ, ‘যারা এই বইটা লিখেছে, তাঁরা পঁচা!’ খুব কষ্ট পেয়েছি বাংলার প্রতি তার ক্ষোভ দেখে, কিন্তু শিশুমনে এই ক্ষোভ কি আমরাই তৈরি করে দিইনি? উচ্চারণ যদি শাদ করি, বানান কেন সোয়াাদ (মানে স্বাদ) লিখতে হবে? নাকি কোনও একদিন যেন বাঙালি শিশুরাই বাংলাকে ঘৃণা করতে পারে সে ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করতে ষড়যন্ত্র করেই বাংলা ব্যাকরণ এরকম উদ্ভট করে সাজানো?

 বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ঠিক একই ধরণের প্রশ্ন আমি করেছিলাম স্কুলের স্যারকে। স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর ছিলো, ‘এটা সংস্কৃত থেকে এসেছে তো, তাই।’ কিন্তু আমি তো কথা বলি বাংলায়, সংস্কৃত থেকে এলে সংস্কৃতের মতো উচ্চারণ কেন করি না? লিখি সংস্কৃত নিয়মে, পড়বো বাংলা নিয়মে-এটা কেমন কথা? এটা তো বানান ‘ইন্ডিয়া’ লিখে ‘ভারত’ উচ্চারণ করার মতো! প্রয়াস, চাষ, পলাশ- এই তিন শব্দের শেষের তিন অক্ষরের উচ্চারণের পার্থক্য কী? পানি আর পাণি-এই দুই শব্দের দুই অর্থ বুঝলাম, কিন্তু উচ্চারণ? কেন, এক পানি দিয়েই দুটো অর্থ প্রকাশ সম্ভব না? ইংরেজি Run শব্দের অর্থ আছে ৬শ-এর মতো!
মধুর এই বাংলা ভাষাকে নিয়ে ঈর্ষাকাতর হয়েই কিনা জানি না, নানা চক্রান্ত আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। জেনে, না জেনে অনেকে বাংলার সর্বনাশ করেছেন। হ্যালহেড বাংলা ব্যাকরণ লিখেছেন, অথচ তাঁর বাংলা জ্ঞান ছিলো সীমিত। বাংলার মানুষ কিভাবে কথা বলে সেটাও তিনি ঠিক জানতেন না। তিনি তাই বাংলা ব্যাকরণ লিখেছেন এক সংস্কৃত পণ্ডিতের সহযোগিতা নিয়ে। সর্বনাশের শুরু এখানেই। এই দুজন মিলে আমাদেরকে সংস্কৃত নিয়মে বাংলা শেখাতে চেয়েছেন। সাধারণত মানুষের মুখের ভাষাই বইয়ের ভাষা হয়, মুখের ভাষাকে কেন্দ্র করে হয় ব্যাকরণ, অথচ হ্যালহেড আমাদের বইয়ের ভাষায় কথা বলতে শেখাতে চাইলেন। উইলিয়াম ক্যারি বাংলা জানতেন, কিন্তু তিনি মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণের অনুবাদ করার মতো করে বাংলা ব্যাকরণ লিখেছেন।
এরা সবাই এসে আমাদের বললেন, আমরা সারা জীবন যে ‘নিশশাশ’ বলে এসেছি সেটা ভুল, শুদ্ধ উচ্চারণ ‘নিসওয়াস’। বাংলাকে শুদ্ধিকরণের নামে, এভাবেই আমাদেরকে বহুদিন বাংলা ব্যাকরণের নামে আসলে পড়ানো হয়েছে সংস্কৃত ব্যাকরণ! এজন্যই ‘শাদ’ উচ্চারণ করলেও লিখতে হয় ‘স্বাদ’! আর এভাবেই গর্ব করার মতো বাংলা ভাষাটাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা ‘বিস্বাদময়’ করে তুলছি।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved www.upokulbarta.com © 2021
Customized BY NewsTheme